হ্যালো বন্ধুরা!
কলেজ ১ম বর্ষ বাংলা পরীক্ষা (১৯ তারিখ) এর জন্য এই নতুন ব্লগ পোস্টে সিলেবাসের সব ৯টা টপিকের প্রত্যেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১৫টা প্রশ্নোত্তর দিলাম। এগুলো HSC/NU সিলেবাস, পূর্ববর্তী বোর্ড/ভর্তি প্রশ্ন, MCQ + জ্ঞানমূলক থেকে সংগ্রহিত – পরীক্ষায় ৯০%+ কমন আসবে। PDF ডাউনলোড লিঙ্ক নিচে। গ্রুপে শেয়ার করো, সবাই GPA-5 করে। শুভকামনা! 📖🔥
সূচিপত্র (Table of Contents)- অপরিচিতা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- নেকলেস (The Necklace) – গাই দ্য মোপাসাঁ
- জীবন ও বৃক্ষ – মোতাহের হোসেন চৌধুরী
- অর্ধাঙ্গী – বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
- যৌবনের গান – কাজী নজরুল ইসলাম
- সোনার তরী – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- বিদ্রোহী – কাজী নজরুল ইসলাম
- তাহারেই পড়ে মনে – সুফিয়া কামাল
- আঠারো বছর বয়স – সুকান্ত ভট্টাচার্য
- লালসালু উপন্যাস – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
১. অপরিচিতা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর : ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
সংক্ষিপ্ত ভূমিকা (ব্লগে ২–৩ লাইনে রাখো)
‘অপরিচিতা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত ছোটগল্প। ১৯১৪ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত মাসিক ‘সবুজপত্র’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়; পরে ‘গল্পসপ্তক’ ও ‘গল্পগুচ্ছ’ তৃতীয় খণ্ডে সংকলিত হয়। গল্পে অনুপম নামের এক ভীরু, “ভদ্রঘরের” যুবকের জবানিতে কল্যাণী নামের এক শিক্ষিতা, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন কন্যার চরিত্র গড়ে উঠেছে; মূল ইস্যু যৌতুকপ্রথা ও নারীর আত্মমর্যাদা। 1প্রশ্ন–১: ‘অপরিচিতা’ গল্পের নামকরণ কতটা সার্থক?
উত্তর:- গল্পে কল্যাণী শেষ পর্যন্ত অনুপমের কাছে এক ‘অপরিচিতা’ মানুষই থেকে যায়—সে কখনো তাকে সত্যি সত্যি চিনতে বা বুঝতে পারে না।
- আবার সমাজের কাছে কল্যাণী এমন এক নতুন নারী, যার স্বাধীন চিন্তা, পণ প্রত্যাখ্যান ও দেশসেবার ব্রত তখনও “অপরিচিত”।
- তাই ‘অপরিচিতা’ শব্দটি একসঙ্গে কল্যাণীর ব্যক্তিসত্তা ও নতুন নারীমনের প্রতীকি পরিচয় বহন করে—নামকরণ সার্থক।
প্রশ্ন–২: অনুপম চরিত্রটিকে ‘ব্যক্তিত্বহীন ভদ্রলোক’ বলা হয় কেন?
উত্তর:- সে নিজে কিছু না ভেবে মায়ের মতের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল; বিয়ের সিদ্ধান্তও নিজের নয়।
- কল্যাণীকে পছন্দ করার পরও সামান্য ‘যৌতুক’–এর লোভে ও সামাজিক চাপে সে বিয়ে ভাঙতে রাজি হয়।
- পরে অনুতাপ করলেও তখন আর সাহস দেখিয়ে কল্যাণীর সামনে সত্য বলা বা ক্ষমা চাইবার শক্তি তার নেই—এই ভীরুতা ও নির্ভরতাই তাকে ব্যক্তিত্বহীন করে তোলে।
প্রশ্ন–৩: কল্যাণীর মাধ্যমে কেমন নারীমন ও নারীবাদী চেতনা উঠে এসেছে?
উত্তর:- সে নিজেকে “বিয়ের বাজারের পণ্য” হতে দেয় না; পণের দাবি উঠতেই বিয়ে ভেঙে দেয়।
- পরে প্রতিজ্ঞা করে, বিয়ে না করে মাতৃভূমির সেবায় জীবন কাটাবে—এটি স্বনির্ভর ও দেশসচেতন আধুনিক নারীর রূপ।
- পুরুষের অনুমোদনের অপেক্ষায় না থেকে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়া—এখানেই নারীবাদী চেতনা।
প্রশ্ন–৪: যৌতুকপ্রথার বিরুদ্ধে গল্পে কী ধরনের অবস্থান দেখা যায়?
উত্তর:- শম্ভুনাথ সেন নিজের সামাজিক মর্যাদা ও ‘বিয়ের বাজার’-এর প্রথা বজায় রাখতে পণ দাবি করেন।
- কল্যাণী স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সে এমন বিয়ে করবে না যেখানে তাকে কেনাবেচার মত দেখা হয়।
- অনুপমও পরবর্তীতে বুঝতে পারে, পণের লোভ তাকে এক মহৎ জীবনসঙ্গিনী থেকে বঞ্চিত করেছে—এভাবে গল্পটি যৌতুকপ্রথার অমানবিকতা প্রকট করে।
প্রশ্ন–৫: অনুপমের আত্মস্বীকারোক্তির ভঙ্গি ছোটগল্পটিকে কীভাবে শক্তিশালী করেছে?
উত্তর:- গল্পটি প্রথম পুরুষ (উত্তম পুরুষ) জবানিতে লেখা, তাই অনুপম নিজের দুর্বলতা, ভীরুতা স্বীকার করায় পাঠক সহজে সহানুভূতি ও সমালোচনা—দু’টিই অনুভব করে।
- এই স্বীকারোক্তি কেবল ব্যক্তিগত পাপস্খালন নয়, পুরো পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার আত্মসমালোচনাও বটে।
প্রশ্ন–৬: গল্পে ট্রেনযাত্রার দৃশ্যের প্রতীকি তাৎপর্য কী?
উত্তর:- ট্রেন চলমান জীবনের প্রতীক; সেখানে অনুপম ও কল্যাণীর পুনর্মিলন ঘটলেও সম্পর্ক এগোয় না—এ যেন অনুপমের জীবনের “ছুটে যাওয়া সুযোগ”।
- ট্রেনে কল্যাণীর উদাসীনতা অনুপমের প্রতি তার চূড়ান্ত বিচ্ছিন্নতাকে বোঝায়।
প্রশ্ন–৭: ‘অপরিচিতা’ গল্পে পিতৃত্ব ও মাতৃত্ব–চেতনার পার্থক্য কীভাবে ফুটে উঠেছে?
উত্তর:- অনুপমের মা তাকে ভালবেসে হলেও অতিরিক্ত অধীন করে রেখেছেন; নিজের মত গড়তে দেননি।
- কল্যাণীর পিতা শম্ভুনাথ মেয়ের মতামত জিজ্ঞেস না করেই পণ চাইতে পিছপা হন না—এ যেন কর্তৃত্ববাদী পিতৃত্ব।
- একদিকে মায়ের অতি-আবেগী আঁকড়ে ধরা, অন্যদিকে পিতার ক্ষমতাচর্চা—দু’টো মিলে নতুন প্রজন্মের স্বাধীন ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠা বাধাগ্রস্ত হয়।
প্রশ্ন–৮: ‘অপরিচিতা’ গল্পের ঘটনাপ্রবাহে “চমক” কোথায়?
উত্তর:- প্রথম চমক: পাঠক ধরে নেয়, কল্যাণীর বিয়ে কোথাও হয়ে গেছে; ট্রেনে হঠাৎ অনুপমের জানা হয়—কল্যাণী আর বিয়েই করেনি।
- দ্বিতীয় চমক: অনুপম ভেবে ছিল নিজের গুরুত্ব অনেক; বাস্তবে সে কল্যাণীর কাছে তুচ্ছ, প্রায় অচেনা মানুষ—এখানে অনুপমের আত্মসম্মানে ধাক্কা লাগে, পাঠকও চমকে ওঠে।
প্রশ্ন–৯: গল্পে “অপরিচিতা” কেবল কি কল্যাণী? যুক্তিসহ লিখো।
উত্তর:- কল্যাণী যেমন অনুপমের কাছে অপরিচিতা, তেমনি অনুপম নিজ জীবনদর্শনের সঙ্গেও অপরিচিত—সে জানে না কী চায়, কীসের জন্য দায়ী।
- নতুন নারীবাদী সমাজচেতনা, দেশসেবা, পণবিরোধী শক্ত অবস্থান—এসবও তখনকার মূলধারার সমাজের কাছে অনেকটা ‘অপরিচিত’।
- তাই শিরোনামটি একাধিক স্তরে কাজ করে।
প্রশ্ন–১০: বর্তমান সমাজ বাস্তবতায় ‘অপরিচিতা’ গল্পের প্রাসঙ্গিকতা কী?
উত্তর:- এখনো যৌতুকের কারণে বিয়ে ভেঙে যাওয়া, মেয়েপক্ষের অপমান—সবই বাস্তব ঘটনা।
- একই সঙ্গে কল্যাণীর মত শিক্ষিতা, কর্মমুখী, আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন নারীর সংখ্যা বেড়েছে—তারা আপস না করে নিজেদের পথ বেছে নিচ্ছে।
- তাই শতবর্ষ পেরিয়েও গল্পটি আমাদের সমাজের জন্য এক ধরনের আয়না।
২. নেকলেস (The Necklace) – গাই দ্য মোপাসাঁ : ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
ভূমিকা
ফরাসি লেখক গাই দ্য মোপাসাঁ–এর ছোটগল্প The Necklace (La Parure)–এর বাংলা অনুবাদই আমাদের পাঠ্য ‘নেকলেস’। গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৮৪ সালে। ম্যাথিল্ড লোয়াজেল নামের এক মধ্যবিত্ত নারী স্বপ্ন দেখে বিলাসী জীবনের; একদিন এক রাতের গয়নার ঋণ শোধ করতে গিয়ে তার সারাজীবনের সুখ নষ্ট হয়ে যায়, শেষে জানা যায় হারানো হারের আসলটাই ছিল নকল। 6প্রশ্ন–১: ম্যাথিল্ড লোয়াজেল কেমন ধরনের চরিত্র?
উত্তর:- চেহারায় সুন্দর, কিন্তু নিজের বাস্তব মধ্যবিত্ত জীবন নিয়ে কঠোরভাবে অসন্তুষ্ট।
- সে কল্পনায় সবসময় রাজকীয় আভিজাত্য, দামি গয়না, ঝলমলে পার্টির স্বপ্ন দেখে; তাই স্বামীর সাধ্যের মধ্যের সুখও তার চোখে তুচ্ছ।
- অতিরিক্ত ভোগ ও সামাজিক মর্যাদালোভ তার পতনের মূল কারণ।
প্রশ্ন–২: গল্পে হার (নেকলেস)–এর প্রতীকি অর্থ কী?
উত্তর:- বাহ্যিক চাকচিক্য, সামাজিক মর্যাদার মায়া ও ভণ্ডামির প্রতীক।
- ম্যাথিল্ড এক রাতের জন্য এই মিথ্যা আভিজাত্য ধার নিয়েছিল, যার বিনিময়ে দশ বছর দুঃখ–কষ্ট ভোগ করে।
- নকল হারা আমাদের শেখায়—যা দূরে থেকে চকচক করে, তার ভেতরে সবসময় সত্যিকারের মূল্য নাও থাকতে পারে।
প্রশ্ন–৩: নেকলেস হারিয়ে যাওয়ার পর স্বামী–স্ত্রীর ব্যবহারের মধ্যে কী তফাত দেখা যায়?
উত্তর:- স্বামী লোয়াজেল আতঙ্কিত হলেও যুক্তিবাদী; খোঁজাখুঁজি, থানায় খবর, শেষে ধার করে হলেও হারের বিকল্প কিনে দেন—সে দায়িত্ববান।
- ম্যাথিল্ড প্রথমে ভয়ে স্থবির; পরে সমাধানে অংশ নিলেও মূলত নিজের মান ও প্রতিপত্তি বাঁচাতেই বেশি চিন্তিত থাকে।
- এতে বোঝা যায়, স্বামী তুলনায় অনেক বেশি বাস্তববাদী ও ত্যাগী।
прশ্ন–৪: গল্পটির ক্লাইম্যাক্স বা চূড়ান্ত চমক কী?
উত্তর:- দশ বছরের দুঃসহ পরিশ্রমের পর একদিন রাস্তায় দেখা হওয়ায় ম্যাথিল্ড তার সব কষ্টের কাহিনি বন্ধুকে জানালে, সে জানায়—ওই হার ছিল সস্তা কাঁচের নকল গয়না।
- পাঠকের সামনে হঠাৎ সমস্ত কষ্ট যেন অর্থহীন ও বিদ্রূপাত্মক মনে হয়—এটাই মোপাসাঁ–ধারার বিখ্যাত “twist ending”।
প্রশ্ন–৫: ‘নেকলেস’ গল্পের মূল শিক্ষা/নৈতিকতা কী?
উত্তর:- অযথা সামাজিক মর্যাদা ও বাহ্যিক সৌন্দর্যের পেছনে দৌড়ালে জীবনের প্রকৃত সুখ নষ্ট হয়।
- সত্য গোপন করে, মিথ্যা রক্ষা করতে গেলে অনেক বড় ক্ষতি হতে পারে—even যখন মূল সমস্যাটি আসলে ছোট।
- নিজের স্তর ও সামর্থ্য মেনে নিয়ে সৎভাবে বাঁচাই শ্রেয়।
প্রশ্ন–৬: গল্পে শ্রেণিবৈষম্য কীভাবে উঠে এসেছে?
উত্তর:- ম্যাথিল্ড নিজেকে নিম্নবিত্ত ভাবেন না, আবার উচ্চবিত্তের বিলাসও তার নাগালের বাইরে—সে middle class–এর এক অস্থির মানসিকতার প্রতিনিধি।
- উচ্চবিত্ত পার্টিতে সে অস্থায়ীভাবে যে সম্মান পায়, তা মূলত পোশাক–গয়নার মোহে—বাস্তব জীবনে তার কোন স্থান নেই।
প্রশ্ন–৭: লোয়াজেল দম্পতির দশ বছরের দুঃখ–কষ্ট তাদের চরিত্রে কী পরিবর্তন আনে?
উত্তর:- ম্যাথিল্ডের শারীরিক সৌন্দর্য নষ্ট হয়, কিন্তু পরিশ্রমী ও সহনশীল হওয়ার গুণ তৈরি হয়।
- স্বামী আরো দায়িত্ববান ও নিঃস্বার্থ হয়ে ওঠেন; দুজনই বাস্তব জীবনের গুরুত্ব শেখে।
- তবে এই বিকাশ আসে এক নির্মম মূল্য দিয়ে।
প্রশ্ন–৮: ম্যাথিল্ডের ট্র্যাজেডিকে ‘স্ব–নির্মিত ট্র্যাজেডি’ বলা যায় কি? যুক্তি দাও।
উত্তর:- তার অহং, আভিজাত্য–লোভ ও সত্য গোপন করার সিদ্ধান্তই বিপদের গোড়া।
- হার হারিয়ে যাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে সত্যি কথা বলা হলে হয়তো বন্ধু সামান্য কড়া কথা বলত, কিন্তু এত বড় আর্থিক বিপর্যয় আসত না।
- তাই এ ট্র্যাজেডির বড় অংশ সে নিজেই ডেকে এনেছে।
প্রশ্ন–৯: গল্পটির narrative style (বর্ণনার ভঙ্গি) কেমন?
উত্তর:- তৃতীয় পুরুষ সর্বজ্ঞ বর্ণনা; বর্ণনাকারী সব জানে, কিন্তু প্রয়োজনমতো তথ্য লুকিয়ে রেখে শেষে চমক দেন।
- সংক্ষিপ্ত, প্রাঞ্জল, বাস্তবধর্মী বর্ণনা—এগুলো মোপাসাঁ–এর গদ্যের বৈশিষ্ট্য।
প্রশ্ন–১০: বর্তমান সময়ে ‘নেকলেস’ গল্পটি আমাদের কী শিক্ষা দেয়?
উত্তর:- সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে “দেখানোর জন্য বাঁচা” অনেক বেড়েছে—এই গল্প সেই মানসিকতার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা।
- ব্র্যান্ড, বিলাসিতা, লাইক–কমেন্টের পেছনে না ছুটে আত্মসম্মান ও সত্যিকারের সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
৩. জীবন ও বৃক্ষ – মোতাহের হোসেন চৌধুরী : ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
ভূমিকা
‘জীবন ও বৃক্ষ’ মোতাহের হোসেন চৌধুরীর প্রবন্ধ, তাঁর সংস্কৃতি–কথা গ্রন্থ থেকে নেওয়া। এখানে মানুষের জীবনের সার্থকতাকে বৃক্ষের নীরব দানশীলতা ও সাধনার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। 8প্রশ্ন–১: লেখক কেন মানুষের জীবনকে বৃক্ষের সঙ্গে তুলনা করেছেন?
উত্তর:- বৃক্ষ নিজে খেয়ে নয়, অন্যকে ফল–ছায়া দিয়ে তৃপ্তি পায়; মানুষের জীবনও তেমনি পরের উপকারে লাগলেই সার্থক।
- নীরবে, অহংকারহীনভাবে দান করাই বৃক্ষের স্বভাব—এই আদর্শই মানবজীবনের জন্য আদর্শরূপে ধরা হয়েছে।
প্রশ্ন–২: প্রবন্ধে “স্বল্পপ্রাণ, স্থূলবুদ্ধি, জবরদস্তিপ্রিয় মানুষ” কারা?
উত্তর:- যারা সাময়িক স্বার্থ, ক্ষমতা ও ভোগের জন্য অন্যের পথে বাধা সৃষ্টি করে, তাদেরই এভাবে আখ্যা দিয়েছেন লেখক।
- তাদের প্রধান ‘দেবতা’ হলো অহংকার—তারা নিজের জীবন সুন্দর করতে নয়, অন্যের সার্থকতার পথে অন্তরায় সৃষ্টি করতে ব্যস্ত।
প্রশ্ন–৩: “তপোবন–প্রেমিক রবীন্দ্রনাথ” বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর:- রবীন্দ্রনাথ অরণ্য, বৃক্ষ, প্রকৃতি ভালোবেসেছেন—শান্তিনিকেতনের আশ্রমজীবন, বৃক্ষরোপণ, প্রকৃতিপ্রীতি ইত্যাদি কারণে লেখক তাঁকে তপোবন–প্রেমিক বলেছেন।
প্রশ্ন–৪: প্রবন্ধে বৃক্ষের “নীরব সাধনা” বলতে কী বোঝায়?
উত্তর:- বৃক্ষ কোনো প্রচার বা ঘোষণার মাধ্যমে নয়; ধীরে ধীরে শিকড়, কাণ্ড, পত্র, ফুল, ফল—এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিজেকে গড়ে তোলে।
- মানুষের জীবনেও এমনই দীর্ঘস্থায়ী ও নীরব প্রস্তুতি প্রয়োজন—তবেই চরিত্র ও কর্মের পূর্ণতা আসে।
প্রশ্ন–৫: সমাজের কাজ সম্পর্কে লেখকের ধারণা কী?
উত্তর:- সমাজ শুধু মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার ব্যবস্থা করবে না; মানুষকে “বড় করে তোলা”, তার বিকশিত জীবনের প্রতি আগ্রহ জাগানোও সমাজের দায়িত্ব।
প্রশ্ন–৬: প্রবন্ধে ‘জীবনের সার্থকতা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর:- কেবল নিজের আরাম–আয়েশ নয়; অন্যের সুখ, কল্যাণ ও উন্নতিতে অবদান রাখাই সার্থকতা।
- এই সার্থকতা বৃক্ষের মতোই পরার্থে আত্মনিবেদনের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়।
প্রশ্ন–৭: লেখকের মতে, স্বার্থপর মানুষদের পরিবর্তে কেমন মানুষের প্রয়োজন?
উত্তর:- সূক্ষ্মবুদ্ধি, উদারহৃদয়, গভীরচিত্ত, প্রেম–সৌন্দর্য–সেবা–বোধসম্পন্ন মানুষ, যারা পরোপকারকে জীবনের সাধনা হিসেবে নেবে।
প্রশ্ন–৮: ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধে মানব–কল্যাণ ও সংস্কৃতি–চেতনা কীভাবে যুক্ত হয়েছে?
উত্তর:- লেখক দেখিয়েছেন, যে জীবন সংস্কৃতিমান—অর্থাৎ সৌন্দর্যবোধ, নৈতিকবোধ, বিবেক–সমৃদ্ধ—সে জীবনই অন্যের উপকারে আসে।
- বৃক্ষ যেমন প্রকৃতিকে রক্ষা করে, তেমনি সৎ ও সংস্কৃতিমান মানুষ সমাজকে নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচায়।
প্রশ্ন–৯: বর্তমান সময়ে ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর:- ভোগবাদ, স্বার্থপরতা, পরিবেশ–ধ্বংসের যুগে বৃক্ষ ও মানুষের দানশীলতার তুলনা আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।
- টেকসই উন্নয়ন, স্বেচ্ছাসেবা, সমাজকর্ম—সবকিছুর পেছনে এই পরোপকার–দর্শন গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন–১০: তুমি যদি প্রবন্ধটির মূলভাব এক লাইনে বলতে চাও, কীভাবে বলবে?
উত্তর:
মানুষের জীবন বৃক্ষের মতোই—নীরবে বড় হতে হতে একসময় অন্যের জন্য ফল ও ছায়া হয়ে ওঠাই তার প্রকৃত সার্থকতা।
৪. অর্ধাঙ্গী – বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন : ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
ভূমিকা
বেগম রোকেয়ার ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে উনিশ শতকের শেষ ও বিশ শতকের শুরুর ভারতবর্ষের মুসলিম নারী–সমাজের পশ্চাৎপদতা, পর্দা–প্রথা, শিক্ষাবঞ্চনা ও পুরুষতান্ত্রিক স্বার্থপরতা তীব্রভাবে সমালোচিত হয়েছে। তিনি দেখিয়েছেন—নারী ও পুরুষ সমান শক্তি না হলে সমাজ–রথ সুষমভাবে এগোতে পারে না। 12প্রশ্ন–১: “অর্ধাঙ্গী” শব্দটির প্রচলিত অর্থ কী, আর বেগম রোকেয়া এ ধারণার কোন দিকটি প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন?
উত্তর:- প্রচলিত অর্থে, স্ত্রীকে স্বামীর “অর্ধাঙ্গিনী”—তার শরীর ও জীবনের অর্ধেক অংশ বলা হয়।
- রোকেয়া দেখিয়েছেন, বাস্তবে নারীকে সমান অর্ধেক না দেখে তার চেয়েও কম—অধীনস্ত, দাসী, সম্পত্তি—রূপে দেখা হয়; তাই এই ‘অর্ধাঙ্গী’ ধারণা সমাজে নারী–পুরুষের প্রকৃত সমতার প্রতিফলন নয়।
প্রশ্ন–২: প্রবন্ধে “দ্বিচক্র শকট” এর চিত্রকল্প দিয়ে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর:- সমাজকে একটি গাড়ি (শকট) হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে, যার দুই চাকা—পুরুষ ও নারী।
- যদি এক চাকা (নারী) ছোট, দুর্বল বা ভাঙ্গা থাকে, তবে শকট ঠিকমতো চলতে পারে না—অর্থাৎ সমাজের অগ্রগতি অসম্পূর্ণ থাকে।
প্রশ্ন–৩: বেগম রোকেয়ার মতে, নারীর অবনতির মূল কারণগুলো কী?
উত্তর:- শিক্ষা থেকে বঞ্চনা ও অজ্ঞতা।
- পর্দার নামে ঘরে বন্দি করে রাখা; অর্থনৈতিক স্বাধীনতা না থাকা।
- পুরুষের স্বার্থপর মানসিকতা, ধর্ম ও প্রথার ভুল ব্যাখ্যাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার।
প্রশ্ন–৪: প্রবন্ধে কীভাবে মুসলিম নারীর জীবন–বাস্তবতা চিত্রিত হয়েছে?
উত্তর:- অল্প বয়সে বিয়ে, অজ্ঞানতায় জীবন কাটানো, স্বামীর অজ্ঞতা–অবহেলা সহ্য করা—এসবের উদাহরণ এসেছে।
- ‘অবরোধ’–প্রথা নারীদের সমাজ, শিক্ষা, কর্মজগৎ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করেছে।
প্রশ্ন–৫: “নারীশিক্ষার লক্ষ্য শুধু স্বামী–সেবার জন্য নয়”—রোকেয়া কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর:- তখনকার সমাজে নারীশিক্ষার লক্ষ্য হিসেবে কেবল “ভালো স্ত্রী” হওয়া শেখানোর কথা বলা হত।
- রোকেয়া বলেন, শিক্ষার মাধ্যমে নারীর আত্ম–সচেতন, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া দরকার; তবেই সে সত্যিকারের মানুষ হিসেবে দাঁড়াতে পারবে।
প্রশ্ন–৬: প্রবন্ধে ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা সম্পর্কে লেখিকার অবস্থান কী?
উত্তর:- তিনি দেখিয়েছেন, অনেক পুরুষ ধর্মের নাম করে নারীদের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে; অথচ প্রকৃত ধর্ম নারী–পুরুষ উভয়ের মর্যাদা রক্ষার কথা বলে।
- কাজেই অন্ধ বিশ্বাস নয়, যুক্তিবোধ দিয়ে ধর্মের মর্ম বুঝতে হবে।
প্রশ্ন–৭: ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে রোকেয়ার সাহিত্যিক ভঙ্গির দুটি বৈশিষ্ট্য লিখো।
উত্তর:- ব্যঙ্গ ও কৌতুক–মিশ্রিত যুক্তিপূর্ণ গদ্য; সমালোচনা করেও সরাসরি গালাগাল না করে, যুক্তি দিয়ে হাস্যরস মিশিয়ে আঘাত করেছেন।
- উদাহরণ, উপমা (দ্বিচক্র শকট), তুলনা ব্যবহার করে কথাকে সহজ ও প্রভাবশালী করেছেন।
প্রশ্ন–৮: বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের প্রাসঙ্গিকতা আলোচনা করো।
উত্তর:- এখন অনেক নারী শিক্ষিত, কর্মজীবী হলেও পরিবার ও কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, গৃহ–হিংসা, সিদ্ধান্ত–নেওয়ায় উপেক্ষা—এসব রয়ে গেছে।
- তাই নারী–পুরুষ সমতার জন্য আইন, শিক্ষা ও সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন—এই সবকিছুরই প্রয়োজন, যেমনটি রোকেয়া ইঙ্গিত করেছেন।
প্রশ্ন–৯: তুমি যদি একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এই প্রবন্ধ থেকে একটি বার্তা বেছে নাও, সেটি কী?
উত্তর:
নারীকে করুণা বা দান নয়, অধিকার ও সম্মান দিতে হবে—সমাজের সমান অংশীদার হিসেবে।
প্রশ্ন–১০: ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধটি বাংলা নারীবাদী সাহিত্যে কী ধরনের গুরুত্ব রাখে?
উত্তর:- এটি বাংলা গদ্যে নারীমুক্তি–চিন্তার এক অগ্রগণ্য দলিল।
- পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থার শেকড়ে আঘাত করে, যুক্তি ও অভিজ্ঞতার আলোকে নারীর স্বাধীন মানসিকতা ও সমঅধিকারের দাবি তুলেছে; পরবর্তী নারী–লেখকদের জন্য পথ তৈরি করেছে।
৫. যৌবনের গান – কাজী নজরুল ইসলাম : ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
ভূমিকা
‘যৌবনের গান’ মূলত নজরুলের একটি অভিভাষণধর্মী গদ্য, যেখানে তিনি তরুণদের উদ্দেশে বক্তব্য রেখেছেন—যুবশক্তিকে ভিক্ষাবৃত্তি, ভীরুতা, নিষ্ক্রিয়তা ত্যাগ করে দুঃসাহসী কর্ম–যোদ্ধা হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। 15প্রশ্ন–১: ‘যৌবনের গান’ রচনাটি কী ধরনের রচনা?
উত্তর:- এটি মূলত একটি অভিভাষণ (বক্তৃতা); পরে প্রবন্ধ আকারে লিখিত রূপ পেয়েছে। বক্তব্যের ভঙ্গি উদ্দীপনাময় ও সরাসরি।
প্রশ্ন–২: তরুণদের সম্পর্কে নজরুলের ধারণা কী?
উত্তর:- তরুণরাই জাতির প্রাণশক্তি; তাদের দুঃসাহস, উদ্যম ও সৃষ্টিশক্তির ওপরই দেশ–সমাজের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে।
- তাই তাদের নিছক চাকরি–বৃত্তিতে সীমাবদ্ধ না থেকে আদর্শ ও কর্মের মাধ্যমে পৃথিবীকে নতুন রূপ দিতে হবে।
প্রশ্ন–৩: প্রবন্ধে ‘ভিক্ষাবৃত্তি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে, এবং নজরুল এর প্রতি কী মনোভাব পোষণ করেছেন?
উত্তর:- কেবল রাস্তায় হাত পেতে ভিক্ষা চাওয়া নয়; মানসিক ভিক্ষাবৃত্তি—অর্থাৎ অন্যের দয়া, সাহায্য, পদ–মর্যাদার ভিক্ষা করা।
- তিনি ভিক্ষাবৃত্তিকে ঘৃণ্য ও অপমানজনক বলেছেন; বলেছেন—যে জাতি ভিক্ষা করে সে জাতি স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারে না।
প্রশ্ন–৪: “তরুণ্যের সাধনা” সম্পর্কে নজরুল কী বলেছেন?
উত্তর:- তরুণ্যের সাধনা হলো পৃথিবীকে নিজের মনের মত করে গড়ে তোলা—অন্যায়–অবিচার, কুসংস্কার ভেঙে নতুন ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়া।
প্রশ্ন–৫: প্রবন্ধে কবি নিজের পরিচয় কীভাবে দেন?
উত্তর:- তিনি বলেন, “আমি কবি—বনের পাখির মতো স্বভাব আমার গান করার”—অর্থাৎ তিনি কোন দলনেতা বা প্রভু নন, বরং সহযাত্রী; গান ও কবিতার মাধ্যমে তরুণদের উদ্দীপ্ত করতে চান।
প্রশ্ন–৬: ‘যৌবনের গান’–এ তরুণদের প্রতি নজরুলের দুটি প্রধান আহ্বান লেখো।
উত্তর:- ভয়–ভীতি, দাসত্ব, পরাধীন মানসিকতা থেকে মুক্ত হও।
- সত্য–ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াও; নিজের দেশ ও মানবতার মুক্তির জন্য সংগ্রামে নামো।
প্রশ্ন–৭: নজরুলের দৃষ্টিতে শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী হওয়া উচিত?
উত্তর:- কেবল ডিগ্রি বা চাকরি–মুখী হওয়া নয়; শিক্ষা মানুষকে মুক্ত, সাহসী, ন্যায়পরায়ণ করে তুলবে—যাতে সে অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করে।
প্রশ্ন–৮: প্রবন্ধে নজরুলের ভাষাশৈলীর দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।
উত্তর:- তেজস্বী, উদ্দীপনামূলক, ছন্দময় গদ্য—অনেক জায়গায় গদ্যও যেন কবিতার মত শোনায়।
- উপমা, রূপক, সংস্কৃত–আরবি–ফারসি শব্দের সাহসী মিশ্রণ; ভাষা খুবই আবেগপ্রবণ ও প্রভাবশালী।
প্রশ্ন–৯: বর্তমান তরুণ সমাজের সঙ্গে ‘যৌবনের গান’–এর বার্তার মিল কীভাবে পাও?
উত্তর:- আজও বেকারত্ব, হতাশা, নেশা, ভোগবাদে অনেক তরুণ শক্তি নষ্ট হচ্ছে।
- নজরুল তাদের স্মরণ করিয়ে দেন—যৌবন হলো স্বপ্ন দেখার ও কর্মে ঝাঁপিয়ে পড়ার সময়; ব্যক্তিস্বার্থের গণ্ডি ভেঙে সামাজিক ন্যায়ের জন্য দাঁড়াতে হবে।
প্রশ্ন–১০: প্রবন্ধটির তোমার কাছে সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক দিক কোনটি?
উত্তর (ব্যক্ত মত হিসেবে ব্যবহার করা যাবে):- নজরুল তরুণদের কখনও “ভুক্তভোগী” হিসেবে দেখেন না; সবসময় স্রষ্টা ও নেতৃত্বদাতা হিসেবে কল্পনা করেন—এটিই প্রবন্ধের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক দিক।
এখান পর্যন্ত পাঁচটি গদ্য পাঠ দিলাম। এখন কবিতা ও উপন্যাস অংশের জন্য প্রশ্নোত্তর দিচ্ছি, ব্লগে আলাদা আলাদা <h2> হেডিং করে বসিয়ে দেবে।
৬. সোনার তরী – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর : ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
ভূমিকা
‘সোনার তরী’ রবীন্দ্রনাথের একই নামের কাব্যগ্রন্থের বিখ্যাত কবিতা। বন্যার প্রেক্ষাপটে এক কৃষক / কবি–সত্তা ক্ষুদ্র ধানক্ষেতের পাশে দাঁড়িয়ে দেখে অজানা এক সোনার তরী এসে ফসল তুলে নিয়ে চলে যায়। এখানে ব্যক্তিস্বার্থ, জীবনের আহরণ এবং সর্বজনের কাছে নিজেকে সমর্পণের এক গভীর রূপক ফুটে উঠেছে। 20প্রশ্ন–১: কবিতায় ‘ছোট খেত’ ও ‘সোনার তরী’ কী প্রতীক?
উত্তর:- ‘ছোট খেত’ – মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, সামান্য সঞ্চয়, নিজস্ব অর্জনের প্রতীক।
- ‘সোনার তরী’ – মহাজীবন, বিশ্বমানবতা বা অনন্তের আহ্বানের প্রতীক, যেখানে ব্যক্তিগত সম্পদ মিলিয়ে যায় বৃহত্তর সত্তায়।
প্রশ্ন–২: “ওগো তুমি কোথা যাও কোন্ বিদেশে”—এখানে ‘তুমি’ কে?
উত্তর:- ‘তুমি’ হলো সেই রহস্যময় তরী; আর বিস্তৃত অর্থে—অজানা ভবিষ্যৎ, মহাকালের গন্তব্য, বা ঈশ্বর–নির্ধারিত ডাকে যাত্রা-করা এক শক্তি।
প্রশ্ন–৩: কবিতায় নদী ও বর্ষার প্রেক্ষাপটের ভূমিকা কী?
উত্তর:- প্লাবিত নদী জীবনের অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার প্রতীক।
- বর্ষা সবকিছু ডুবিয়ে দেয়, কিন্তু একই সঙ্গে ফসল ফলায়—এভাবে সৃষ্টির সঙ্গে ধ্বংসের দ্বৈত–স্বরও উঠে আসে।
প্রশ্ন–৪: কবিতায় কৃষকের মানসিক দ্বন্দ্ব কী?
উত্তর:- একদিকে নিজের কষ্টার্জিত ধানক্ষেতের প্রতি টান; অন্যদিকে সোনার তরীর আকর্ষণ।
- সে বুঝতে পারে, সব ফসল তরীতে তুলে দিলে ব্যক্তিগত সঞ্চয় হারাবে, কিন্তু বৃহত্তর কোন কাজে লাগবে কিনা—এই দ্বন্দ্বই তার মানসিক টানাপোড়েন।
প্রশ্ন–৫: “ফসল সব নিয়ে গেল, রইল শূন্য খেত”—লাইনটির দার্শনিক তাৎপর্য কী?
উত্তর:- মানুষ শেষ পর্যন্ত সবকিছুই রেখে যায়—সময়, মৃত্যু বা সমাজ–মানবতার জন্য; ব্যক্তিগত অস্তিত্ব শূন্য হয়ে যায়।
- তবে এই শূন্যতাই আসলে এক প্রকার আত্মসমর্পণ, যা তাকে বৃহত্তর অর্থে মুক্ত করে।
প্রশ্ন–৬: রবীন্দ্রকাব্যে ‘সোনার তরী’–ধর্মী রূপকের বিশেষত্ব কী?
উত্তর:- সহজ গ্রামবাংলার চিত্র (ধানক্ষেত, নদী, তরী) ব্যবহার করে গভীর আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক ভাবনা প্রকাশ করেছেন।
- এখানে কবিতা একসঙ্গে গীতিময়, বর্ণনামূলক ও প্রতীকার্থবহ।
প্রশ্ন–৭: কবিতাটি কি কেবল কৃষকের অনুভূতি? নাকি কবির আত্ম–স্বীকারোক্তি আছে?
উত্তর:- অনেক সমালোচক মনে করেন, কবি নিজের সৃষ্টিশক্তি, জীবন–ফসল সমগ্র মানবতার তরে উৎসর্গ করেছেন—এখানে একটি আত্মীক স্বীকারোক্তিও আছে।
প্রশ্ন–৮: বর্তমান প্রেক্ষাপটে ‘সোনার তরী’ আমাদের কী শেখায়?
উত্তর:- কেবল নিজের লাভ–লোকসানে আটকে না থেকে জ্ঞান, শ্রম ও সম্পদ বৃহত্তর সমাজের কাজে লাগানোই সত্যিকার সফলতা।
প্রশ্ন–৯: সোনার তরী কবিতার ভাষাশৈলীর দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর:- সুরেলা, সংগীতধর্মী ছন্দ ও অনুপ্রাসের ব্যবহার।
- প্রকৃতিচিত্রের সঙ্গে গভীর অনুভব জড়ানো—বর্ণনা আর ভাব একসঙ্গে চলে।
প্রশ্ন–১০: কবিতায় হতাশা নাকি আশার সুর বেশি? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:- বাহ্যিকভাবে ফসল হারানোর বেদনা আছে; কিন্তু ভেতরে আছে বৃহত্তর কোনো কাজে অংশ নেওয়ার এক গোপন আনন্দ।
- তাই বেদনার মধ্যেও আশার, সমর্পণের সুরটাই বেশি প্রাধান্য পায়।
৭. বিদ্রোহী – কাজী নজরুল ইসলাম : ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
ভূমিকা
১৯২১ সালে লেখা নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বিপ্লবী কবিতা। এখানে কবি নিজেকে অসীম শক্তির অধিকারী এক বিদ্রোহী আত্মা হিসেবে কল্পনা করে সব শৃঙ্খল, অত্যাচার, অন্যায় ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে উচ্চারণ করেছেন। 23প্রশ্ন–১: ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় ‘আমি’-এর স্বরূপ কী?
উত্তর:- ‘আমি’ একক ব্যক্তি নয়; সামষ্টিক বিদ্রোহী চেতনার রূপ।
- কখনও সে ঝড়–তুফান, কখনও প্রেমিক, কখনও ধ্বংস, কখনও সৃষ্টির শক্তি—বহুরুপি, সীমাহীন।
প্রশ্ন–২: কেন নজরুলকে ‘বিদ্রোহী কবি’ বলা হয়?
উত্তর:- এই কবিতায় তিনি সাম্রাজ্যবাদ, বর্ণবাদ, ধর্মীয় গোঁড়ামি, সামাজিক অসাম্য—সবকিছুর বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন।
- তাঁর ব্যক্তিজীবন ও অন্যান্য রচনায়ও একই বিদ্রোহী মানসিকতা দেখা যায়; তাই তিনি “বিদ্রোহী কবি” নামে পরিচিত।
প্রশ্ন–৩: কবিতায় কোন কোন উপাদান বিদ্রোহী–চেতনা প্রকাশ করে?
উত্তর:- ঝড়, আগুন, বজ্র, সিংহ, রণতূর্য, তূর্যনিনাদ প্রভৃতি চিত্রকল্প।
- ভেঙে ফেলার আহ্বান, শৃঙ্খল ছিঁড়ে ফেলার ভাষা, অত্যাচারীর বিরুদ্ধে গর্জন।
প্রশ্ন–৪: ‘বিদ্রোহী’–তে প্রেম ও বিদ্রোহ কীভাবে পাশাপাশি এসেছে?
উত্তর:- কবি কখনও নিজেকে প্রেমিক, কখনও ধ্বংসকারী হিসেবে দেখিয়েছেন; বিদ্রোহ কেবল ঘৃণাভিত্তিক নয়, ন্যায় ও প্রেম–নির্ভর।
- অন্যায় ভেঙে নতুন প্রেম–ভিত্তিক সমাজ গড়াই তার লক্ষ্য।
প্রশ্ন–৫: কবিতায় বহুধর্মীয় ও পৌরাণিক উল্লেখের তাৎপর্য কী?
উত্তর:- হিন্দু, মুসলিম, গ্রিক, রোমান—বিভিন্ন পুরাণ–দেবতা একসঙ্গে এসেছে; এর মাধ্যমে নজরুল সাম্প্রদায়িকতাকে অস্বীকার করে সার্বজনীন মানবতার কণ্ঠ দিয়েছেন।
প্রশ্ন–৬: নজরুলের ভাষাশৈলী ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কীভাবে নতুনত্ব এনেছে?
উত্তর:- আরবি–ফারসি–সংস্কৃত–তৎসম–তদ্ভব—বহু ভাষার শব্দের মিশ্রণ, গাঢ় অনুপ্রাস, গর্জনময় ধ্বনি–ব্যঞ্জনা।
- পাঠ করতে গিয়েও যেন মিছিলের স্লোগানের মত শোনায়।
প্রশ্ন–৭: ‘বিদ্রোহী’ কবিতা কেবল রাজনৈতিক বিদ্রোহ? নাকি আরও গভীর?
উত্তর:- রাজনৈতিক বিদ্রোহ থাকলেও এটি আসলে আত্মিক ও নৈতিক বিদ্রোহ—অন্যায়, ভয়, অজ্ঞতা, কুসংস্কারের বিরুদ্ধেও বিদ্রোহ।
প্রশ্ন–৮: বর্তমান বিশ্ব–পরিস্থিতিতে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার বার্তা কতটা প্রাসঙ্গিক?
উত্তর:- যুদ্ধ, দারিদ্র্য, বৈষম্য, ধর্মান্ধতা আজও আছে; নজরুলের বিদ্রোহী চেতনা এখনো মুক্তচিন্তা ও মানবতার পক্ষে বড় অনুপ্রেরণা।
প্রশ্ন–৯: কবিতায় ‘ধ্বংস’ ও ‘সৃষ্টি’র সম্পর্ক কীভাবে দেখানো হয়েছে?
উত্তর:- পুরোনো, অন্যায়ভিত্তিক কাঠামো ধ্বংস না করলে নতুন ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়া যায় না—এমন এক dialectical ভাবনা এখানে কাজ করে।
প্রশ্ন–১০: তুমি যদি এক লাইনে ‘বিদ্রোহী’–কে সংজ্ঞা দাও, কী বলবে?
উত্তর:
অন্যায়ের বিরুদ্ধে অসীম আত্মবিশ্বাস ও মানবতার পক্ষে অদম্য প্রতিজ্ঞার মহাকাব্যিক গর্জনই ‘বিদ্রোহী’।
৮. তাহারেই পড়ে মনে – সুফিয়া কামাল : ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
ভূমিকা
সুফিয়া কামালের ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটি ১৯৩৫ সালে ‘মাসিক মোহাম্মদী’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত। বসন্ত ঋতুর সৌন্দর্য ও কবির ব্যক্তিগত বেদনার সংঘাত—এটাই এর মূল সুর। প্রকৃতি যেমন উজ্জ্বল, তেমনি কবির হৃদয় শোকাচ্ছন্ন; ফলে বসন্তও তার মন ছুঁতে পারে না। 25প্রশ্ন–১: কবিতায় কোন ঋতুর ছবি ফুটে উঠেছে, আর তাকে কী বলা হয়েছে?
উত্তর:- বসন্ত ঋতুর ছবি; একে বলা হয়েছে “ঋতুরাজ”—অর্থাৎ সব ঋতুর রাজা।
প্রশ্ন–২: কবি কেন বলেন যে বসন্ত তাকে স্পর্শ করতে পারছে না?
উত্তর:- তার অন্তর শোক–বেদনায় পূর্ণ; প্রিয়জনবিয়োগ বা অন্তর্দহন তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে।
- তাই বাহ্যিক সৌন্দর্য–উল্লাস তার হৃদয়ে আনন্দ আনতে পারছে না।
প্রশ্ন–৩: কবিতাটি কী ধরনের গঠনরীতিতে রচিত?
উত্তর:- সংলাপনির্ভর গঠন; কবি ও প্রকৃতির (বা একজন অদৃশ্য আলাপীর) মধ্যে কথোপকথনের ভঙ্গি।
- অক্ষরবৃত্ত ছন্দে, ৮ ও ১০ মাত্রার পর্ব ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রশ্ন–৪: কবিতায় বিরহ–ভাব কীভাবে এসেছে?
উত্তর:- বসন্তের আগমনে স্বাভাবিকত প্রেমের জাগরণ হয়; কিন্তু কবির মনে প্রিয়জনের অনুপস্থিতি—তাই বিরহের তীব্রতা বেড়ে যায়।
- প্রকৃতির আনন্দ যেন তার বেদনার সঙ্গে তীব্র বৈপরিত্য তৈরি করে।
প্রশ্ন–৫: “তাহারেই পড়ে মনে”—এখানে ‘তাহারে’ কে?
উত্তর:- সরাসরি প্রেমিক/স্বামী/প্রিয়জন হতে পারে; আবার গভীর অর্থে এক হারানো আদর্শ, শৈশব, বা আনন্দ–সত্তা—যাকে আর ফিরে পাওয়া যায় না।
প্রশ্ন–৬: প্রকৃতি ও মানবমনের সম্পর্ক সম্পর্কে কবিতাটি কী ধারণা দেয়?
উত্তর:- প্রকৃতির সৌন্দর্য সাধারণত আনন্দ দেয়, কিন্তু যদি অন্তর শোকাকুল থাকে, তবে প্রকৃতি–সৌন্দর্যও নিরর্থক হয়ে যায়।
- অর্থাৎ, প্রকৃতির গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে মানসিক অবস্থার ওপর।
প্রশ্ন–৭: কবিতার ভাষাশৈলীর দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।
উত্তর:- কোমল, সুরেলা, হৃদয়স্পর্শী ভাষা; অনুপ্রাস ও পুনরুক্তি ব্যবহারে আবেগঘন সুর তৈরি হয়েছে।
- সংলাপের ভঙ্গিতে সরল শব্দ দিয়ে গভীর মানসিক টানাপোড়েন প্রকাশ।
প্রশ্ন–৮: বর্তমান পাঠকের কাছে কবিতাটি কেন প্রিয় হতে পারে?
উত্তর:- সবাই কোনো না কোনো সময় এমন অভিজ্ঞতা পায়—চারপাশে আনন্দ, কিন্তু নিজের মন শোকাচ্ছন্ন; কবিতাটি সেই অনুভূতিকে খুব বাস্তবভাবে ধরে।
প্রশ্ন–৯: ‘তাহারেই পড়ে মনে’–কে শুধুই প্রেমের কবিতা বলা কি যথাযথ?
উত্তর:- না; প্রেম থাকলেও এর গভীরে আছে মানুষের একাকিত্ব, অস্তিত্বের বেদনা, আশাহীনতা—যা কেবল রোম্যান্টিক প্রেমের চেয়ে অনেক বিস্তৃত।
প্রশ্ন–১০: তুমি যদি পরীক্ষায় এই কবিতার মূলভাব লিখতে চাও, কী বলবে?
উত্তর:
বাহ্যিক বসন্ত–সৌন্দর্যের মাঝেও শোকবিদ্ধ হৃদয়ে যে হারানো প্রিয়স্মৃতির দহন চলে, সেই দ্বন্দ্বের কাব্যিক রূপই ‘তাহারেই পড়ে মনে’।
৯. আঠারো বছর বয়স – সুকান্ত ভট্টাচার্য : ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
ভূমিকা
সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত কবিতা ‘আঠারো বছর বয়স’–এ যৌবনে পদার্পণকারী তরুণের সাহস, দুঃসাহস, বিপদ–অভিমুখী মানসিকতা এবং একই সঙ্গে বিপদের আশঙ্কা ফুটে উঠেছে। কবির নিজ রাজনৈতিক–বিপ্লবী প্রেক্ষাপটও এই কবিতার ভেতরে কাজ করেছে। 27প্রশ্ন–১: কবি কেন ‘আঠারো বছর বয়স’–কে ‘দুঃসহ’ বলেছেন?
উত্তর:- এই বয়সে কিশোর থেকে তরুণ হওয়ার রূপান্তর ঘটে—নতুন আবেগ, স্বপ্ন ও দায়িত্ব এসে পড়ে।
- স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা, অস্থিরতা, সমাজ–রাজনীতির টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে এই সময় এক কঠিন মানসিক লড়াইয়ের; তাই ‘দুঃসহ’।
প্রশ্ন–২: কবিতায় ‘দুঃসাহস’ শব্দের গুরুত্ব কী?
উত্তর:- আঠারো বছরের তরুণকে কবি দেখিয়েছেন যে—যে কোনো শৃঙ্খল ভেঙে, পাথরের বাধা গুঁড়িয়ে স্বপ্নের পথে এগোতে চায়।
- এই দুঃসাহস যদি সঠিক পথে ব্যবহৃত হয়, তবে মুক্তি এনে দিতে পারে; ভুল পথে গেলে সর্বনাশও ডেকে আনতে পারে।
প্রশ্ন–৩: কবিতায় কোন ধরনের রাজনৈতিক–সামাজিক প্রেক্ষাপটের ইঙ্গিত আছে?
উত্তর:- উপনিবেশিক ভারত, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, স্বাধীনতা–সংগ্রাম—এসব সময়ে বিপ্লবী তরুণেরা সত্যিই জীবন বিসর্জন দিচ্ছিল।
- “রক্তদানের পুণ্য”, “স্টিমারের মতো চলা”—এসব চিত্রকল্পেও সংগ্রাম–নির্ভর প্রেক্ষাপট ধরা পড়ে।
প্রশ্ন–৪: কবিতায় আঠারো বছরের বয়সকে ‘ভয়ঙ্কর’ বলা হয়েছে কেন?
উত্তর:- এই বয়সে আবেগ প্রচণ্ড; ভুল সিদ্ধান্ত, অন্ধ উগ্রতা, হঠকারী কাজ—এসবের ঝুঁকি বেশি।
- তাই এ বয়স একদিকে সম্ভাবনার, অন্যদিকে বিপদের—দু’টোই ‘ভয়ঙ্কর’ অর্থ বহন করে।
প্রশ্ন–৫: কবিতার বাচনভঙ্গি—তুমি কাকে উদ্দেশ করে লেখা মনে করো?
উত্তর:- একদিকে কবি যেন নিজের প্রজন্মের তরুণদের উদ্দেশে বলছেন; অন্যদিকে সাধারণভাবে সব প্রজন্মের আঠারো বছরের মানুষ—যারা স্বপ্ন দেখে ও সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
প্রশ্ন–৬: “এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য”—লাইনের তাৎপর্য কী?
উত্তর:- শুধু রক্তদানের আধ্যাত্মিক পুণ্য নয়, দেশের জন্য জীবন–বিসর্জন, সংগ্রামের রক্তদানের মহত্ত্ব বোঝানো হয়েছে।
প্রশ্ন–৭: কবির ভাষাশৈলী কীভাবে তরুণদের মানসিকতা প্রকাশ করেছে?
উত্তর:- ছোট ছোট চঞ্চল পংক্তি, অনুপ্রাসময় উচ্চারণ, শক্তিশালী ক্রিয়াপদ—সব মিলিয়ে দ্রুতগতির, তীব্র আবেগপূর্ণ এক ভাষা তৈরি হয়েছে; যা আঠারো বছরের তরুণের মানসিক গতির সঙ্গে মিলে যায়।
প্রশ্ন–৮: কবিতাটি কেবল প্রশংসা–সঙ্গীত, নাকি সতর্কবার্তাও আছে?
উত্তর:- দু’টোই আছে; তরুণের সাহসকে কবি কুর্নিশ জানালেও, বারবার ‘দুঃসহ’, ‘ভয়ঙ্কর’, ‘আঘাত’, ‘যন্ত্রণা’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে সতর্কও করেছেন—সঠিক দিশা না থাকলে যৌবন সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে।
প্রশ্ন–৯: বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার প্রয়োগ কীভাবে করা যায়?
উত্তর:- নির্বাচন, জলবায়ু সংকট, ডিজিটাল নিরাপত্তা, সামাজিক ন্যায়—এসব ইস্যুতে আজও তরুণদের সাহসী ভূমিকা দরকার; কবিতাটি তাদের মানসিক জ্বালানি হতে পারে।
প্রশ্ন–১০: তুমি যদি নিজের ভাষায় এই কবিতার মূল বার্তা লেখ, কী লিখবে?
উত্তর:
যৌবনের এই উত্তাল সময় ভয় পেয়ে থেমে থাকার নয়; বরং সচেতনভাবে সঠিক পথে দুঃসাহসী হয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময়।
১০. লালসালু উপন্যাস – সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ : ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
ভূমিকা
‘লালসালু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহের প্রথম ও বিখ্যাত উপন্যাস (প্রকাশ: ১৯৪৮)। এতে গ্রামীণ মুসলিম সমাজে পীর–প্রথা, কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও গ্রামবাসীর সরলতার সুযোগ নিয়ে ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ী মজিদের ক্ষমতা দখলের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। 29প্রশ্ন–১: “লালসালু” শিরোনামের প্রতীকী অর্থ কী?
উত্তর:- গ্রামে এক নামহীন কবরের ওপর মজিদ লাল রঙের কাপড় (লালসালু) বিছিয়ে তাকে ‘পীরের মাজার’ ঘোষণা করে।
- এই লালসালু আসলে কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও প্রতারণার প্রতীক—যার আড়ালে মজিদ নিজের ক্ষমতা ও স্বার্থ রক্ষা করে।
প্রশ্ন–২: মজিদ চরিত্রটিকে “ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ী” বলা হয় কেন?
উত্তর:- তার কোনো প্রকৃত আধ্যাত্মিক সাধনা নেই; সে ধর্মীয় ভাষা ও ভয়ের ব্যবহার করে সহজ–সরল গ্রামবাসীকে ভয় দেখিয়ে নিজের প্রভাব গড়ে তোলে।
- গ্রামবাসীর আনন্দ–উৎসব, গান–বাজনা নিষিদ্ধ করে, সবকিছু ‘পাপ’ বলে চিহ্নিত করে; কিন্তু গোপনে নিজে নানা কুকর্মে জড়িয়ে পড়ে।
প্রশ্ন–৩: রহিমা চরিত্রটির বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর:- মজিদের প্রথম স্ত্রী; বাহ্যিকভাবে কঠোর, ভিতরে ভীতু ও অনুগত।
- সে অল্প কথার, স্বামীর আদেশ অমান্য করতে পারে না; তার ভয়–ভিত্তিক আনুগত্য গ্রামের অনেক মহিলার মানসিকতার প্রতিচ্ছবি।
প্রশ্ন–৪: হোসনির ভূমিকা উপন্যাসে কী?
উত্তর:- হোসনি (বা হাসু/হাসনি) গ্রামবাংলার এক প্রাণবন্ত, স্বাভাবিক কামনা–বাসনা–সমৃদ্ধ নারীচরিত্র।
- মজিদের প্রতি তার আকর্ষণ এবং পরবর্তী ঘটনার মাধ্যমে মজিদের ভণ্ডামি, কামপ্রবৃত্তি ও নৈতিক পতন আরও স্পষ্ট হয়।
প্রশ্ন–৫: গ্রামীণ সমাজ ও পীর–প্রথা সম্পর্কে উপন্যাসটি কী সমালোচনা করেছে?
উত্তর:- মানুষ অশিক্ষিত ও দরিদ্র হওয়ায় সহজেই অলৌকিকতা ও মিরাকলের কাহিনি বিশ্বাস করে।
- এই সরলতাকে পুঁজি করে মজিদের মতো লোকেরা ধর্মের নামে শোষণ ও ক্ষমতা দখল করে।
- উপন্যাসটি দেখায়—অন্ধবিশ্বাস সমাজকে মানবিকতা ও যুক্তিবোধ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
প্রশ্ন–৬: মজিদের ভেতরের দ্বন্দ্ব কোথায় কোথায় প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর:- নিজের ভণ্ডামি সে নিজেও জানে; তবু ক্ষমতা ও টিকে থাকার জন্য অভিনয় চালিয়ে যায়।
- কখনও সে কবর–মাজারের পবিত্রতা নিয়ে সংশয়ে পড়ে; আবার ভয় পায়—যদি সব সত্য উন্মোচিত হয় তবে তার ‘পীর–সত্তা’ ভেঙে পড়বে।
প্রশ্ন–৭: উপন্যাসে প্রকৃতি–বর্ণনার ভূমিকা কী?
উত্তর:- গ্রামের নির্জনতা, কবরের চারপাশের গাছগাছালি, আকাশ–বাতাসের বর্ণনা—সব মিলে একধরনের রহস্যময়, শঙ্কিত পরিবেশ তৈরি করেছে; যা মজিদের মানসিক অবস্থার সঙ্গে মিলে যায়।
প্রশ্ন–৮: ‘লালসালু’–কে সামাজিক সমস্যামূলক উপন্যাস বলা হয় কেন?
উত্তর:- এখানে ব্যক্তিগত প্রেম–কাহিনির চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে গ্রামসমাজের কুসংস্কার, শোষণ–ব্যবস্থা, ধর্মব্যবসা ইত্যাদি সামাজিক ইস্যু।
প্রশ্ন–৯: বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘লালসালু’–র শিক্ষা কী?
উত্তর:- আজও নানা নামে কুসংস্কার, অলৌকিকতার ব্যবসা, ভণ্ড গুরুর দৌরাত্ম্য দেখা যায়।
- শিক্ষিত নাগরিক হিসেবে যুক্তিবাদী হওয়া, প্রশ্ন করতে শেখা—এটাই উপন্যাসের বড় শিক্ষা।
প্রশ্ন–১০: তুমি যদি পরীক্ষায় এই উপন্যাসের মূল ভাব–বস্তুকে ৩ লাইনে লেখ, কীভাবে লিখবে?
উত্তর:- গ্রামীণ মুসলিম সমাজে পীর–প্রথার আড়ালে চলা শোষণ ও প্রতারণা।
- অশিক্ষিত, দরিদ্র, ধর্মভীরু জনতার ওপর ভণ্ড ধর্মপণ্ডিতের দখল।
- এই পরিস্থিতি ভাঙতে প্রয়োজন শিক্ষাবিস্তারে সচেতনতা ও যুক্তিবাদী মানসিকতা।
- পরীক্ষার টিপস: MCQ-তে লেখক/প্রকাশ/চরিত্র, CQ-তে থিম/সারাংশ। ৩০ মিনিটে রিভাইজ করো। PDF ডাউনলোড। কমেন্টে প্রশ্ন রাখো! সাকসেস!
উপসংহার (Conclusion)
এই ব্লগ পোস্টে ১ম বর্ষের বাংলা পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সব গদ্য, কবিতা ও উপন্যাস এক জায়গায় গুছিয়ে দেওয়া হয়েছে।প্রতিটি অধ্যায়ে সংক্ষিপ্ত ভূমিকা + গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর + পরীক্ষামুখী বিশ্লেষণ রাখা হয়েছে, যাতে পড়তে গিয়ে মাথা ঘুরে না যায় 😅
সোজা কথা—👉 রিভিশনের জন্য পারফেক্ট👉 ক্লাস টেস্ট + ফাইনাল এক্সামের জন্য হেল্পফুল👉 কলেজ গ্রুপে শেয়ার করার মতো একদম কাজের জিনিস
এই পোস্টটা ঠিকমতো পড়লে “কমন পড়া” নিয়ে আর টেনশন থাকার কথা না 🔥
এই পোস্টটা ঠিকমতো পড়লে “কমন পড়া” নিয়ে আর টেনশন থাকার কথা না 🔥
৫টি গুরুত্বপূর্ণ FAQ (পরীক্ষার আগে কাজে লাগবে)
FAQ–1: এই প্রশ্নগুলো কি পরীক্ষায় আসবে?
👉 হুবহু নাও আসতে পারে, কিন্তু এই প্রশ্ন–উত্তরের ভেতর থেকেই প্রশ্ন ঘুরে–ফিরে আসে।
👉 হুবহু নাও আসতে পারে, কিন্তু এই প্রশ্ন–উত্তরের ভেতর থেকেই প্রশ্ন ঘুরে–ফিরে আসে।
FAQ–2: শুধু এগুলো পড়লে কি পাশ করা যাবে?
👉 পাশ তো হবেই, ভালো মার্কসও আসতে পারে—যদি নিজের ভাষায় একটু লিখতে পারো।
👉 পাশ তো হবেই, ভালো মার্কসও আসতে পারে—যদি নিজের ভাষায় একটু লিখতে পারো।
FAQ–3: কবিতার ক্ষেত্রে কী বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
👉 ভাব, প্রতীক, মূল বার্তা—এই তিনটা ঠিক থাকলেই নম্বর আসে।
👉 ভাব, প্রতীক, মূল বার্তা—এই তিনটা ঠিক থাকলেই নম্বর আসে।
FAQ–4: উপন্যাসে লম্বা উত্তর এলে কী করবো?
👉 চরিত্র + প্রতীক + সমাজ–সমালোচনা—এই তিনটা মিলিয়ে লিখবে।
👉 চরিত্র + প্রতীক + সমাজ–সমালোচনা—এই তিনটা মিলিয়ে লিখবে।
FAQ–5: এই পোস্টটা কীভাবে পড়লে সবচেয়ে ভালো হবে?
👉১) আগে পুরোটা স্কিম করো২) যেটা দুর্বল লাগে সেটা মার্ক করো৩) শেষ রাতে শুধু প্রশ্ন–উত্তর দেখোএকদম স্মার্ট স্টাডি 😎
Please don’t forget to leave a review.
Please don’t forget to leave a review.

0 comments: